কিউএস র্যাংকিং: উন্নতি করেছে বুয়েট
বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। শীর্ষ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে থাকা বুয়েট উঠে এসেছে ৭৬১ থেকে ৭৭০ নম্বরের মধ্যে।
দেশের সেরা এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি গত বছরের তালিকায় ছিলো ৮০১-৮৫০ রেঞ্জের মধ্যে। অন্যদিকে দেশের তৃতীয় সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এনএসইউ গত বছরের ৯০১-৯৫০ রেঞ্জ থেকে নেমে এবার ৮৫১-৯০০ রেঞ্জে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ৫৫৪তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) তাদের ওয়েবসাইটে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ২০২৫ প্রকাশ করে। তালিকায় র্যাংকিংয়ে ৮৫১-৯০০-এর মধ্যে অবস্থান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ)।
কিউএসের এবারের র্যাংকিংয়ে বিশ্বের ১ হাজার ৫০৩টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকার শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং তৃতীয় দেশটির বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
তালিকার প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারতের ১৩টি ও পাকিস্তানের দুটি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ তালিকায় বাংলাদেশের ১৫, ভারতের ৫০ ও পাকিস্তানের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। গতবারের তুলনায় এবার র্যাংকিংয়ে বেশ উন্নতি করেছে ঢাবি। গত বছরের তালিকায় ঢাবির অবস্থান ছিল ৬৯১ থেকে ৭০০-এর মধ্যে। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ঢাবির অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০ রেঞ্জের মধ্যে ছিল।
এই তিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিশ্বব্যাপী র্যাংক করা ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের আরও ১২ বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ৪টি প্রযুক্তি ঘরনার বিশ্ববিদ্যালয়।
সেগুলো হলো- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (১০০১-১২০০), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১২০১-১৪০০)।
এছাড়া তালিকায় ১৪০১ থেকে এর ওপরে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করলেও ২০১০ সালে আলাদা হয়ে যায় কিউএস। এরপর থেকে এককভাবেই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে তারা। কিউএসের প্রকাশিত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য র্যাঙ্কিংগুলোর একটি মনে করা হয়। এই র্যাঙ্কিংয়ে এখন আটটি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। প্রতিটি সূচকে ১০০ করে স্কোর থাকে। সব সূচকের যোগফলের গড়ের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর নির্ধারিত হয়।
কিউএস র্যাঙ্কিংয়ের সূচকগুলো হলো একাডেমিক খ্যাতি (একাডেমিক রেপুটেশন), চাকরির বাজারে সুনাম (অ্যামপ্লয়ার রেপুটেশন), শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত (ফ্যাকাল্টি-স্টুডেন্ট রেশিও), শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি (সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি), আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও), আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও), আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক (ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক) ও কর্মসংস্থান (অ্যাম্প্লয়মেন্ট আউটকামস)।







